হোম » টিপস এন্ড ট্রিকস » কম কাজেই অর্জন করুন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য
কম কাজেই অর্জন করুন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য

কম কাজেই অর্জন করুন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য

কাজ করলে সেই অনুযায়ী ফলাফল পাওয়া যায়। বা যত কাজ করবে, তত তোমার সৌভাগ্য বাড়বে- এসবই অনেক বেশি পরিচিত কথা। বেড়ে ওঠার দিনগুলো থেকে জীবনের পথে একা একা হাঁটতে শেখার শেষ দিন পর্যন্ত এ কথাগুলো প্রতিনিয়তই শুনে যেতে হয় মানুষকে। কথাটা সত্যি যে কর্মই সাফল্য। কিন্তু সেটার পরিমাণ বেশি হলেই যে সাফল্যে পরিমাণও বেশি হবে তা কিন্তু ঠিক নয়। কম কাজ করেও একজন ব্যক্তি অনেক সময় সেই সাফল্য অর্জন করতে পারে যেটা কিনা অনেক বেশি কাজ করেও অন্য কেউ পারেনা।
প্যরিসের অলস আগস্ট

প্রতি বছরের আগস্টে প্যারিসে এক বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পর্যটকের ভিড় বেড়ে যায় সেখানে তখন। শ্রমিকরাও ছুটি নিয়ে উপভোগ করে অলস সময়। অনেকেই হয়তো বলে উঠবেন – তাহলে আগস্টে প্যারিস তো পুরো কাজ-কর্মহীন হয়ে পড়ে। হ্যাঁ! সত্যিই তাই! কিন্তু তাতেও কিন্তু তাদের সফলতা আর কাজের পরিমাণ ঠিকই ধরে রাখে তারা। অবসরের সময়গুলোতে নিজেদের সব ধরনের ক্লান্তি ভুলে নতুন করে আগের চাইতে আরো তিনগুন বেশি কাজ করে কাজের ক্ষতি পুষিয়ে নেয় তারা।
মুদ্রার উল্টো পিঠ

এমনিতে আমরা অনেক কাজের ফল হিসেবে অনেক বেশি সাফল্যকে দেখলেও সেটা মূলত মুদ্রার একটা পিঠ। অন্য পাশটা? অনেক বেশি কাজ করলে সাফল্য বেশি তো হবারই কথা। তবে কাজের সময় আর কাজের মান কিন্তু একে অন্যের সাথে প্রচন্ডভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই কাজ যত বেশি করবেন আপনি, আপনার কাজের মান কিন্তু ততটাই কমবে। কমে আসে সাফল্যের পরিমাণ। ফ্লোরিডার মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক কে. অ্যান্ডার্স এরিকসন সুরকারদের ওপর একটি গবেষণা চালান। পরীক্ষায় দেখা সফল সুরকারেরা প্রতিদিন মাত্র ৯০ মিনিট চর্চা করেন। কিন্তু তাদের চাইতে বেশি চর্চা করেন যারা তাদের ভেতরে কিন্তু অতটা সাফল্য খুঁজে পাননি তিনি। এছাড়াও অতিরিক্ত কাজ এতটা মানসিক চাপ তৈরি করে দেয় মানুষের ভেতরে যে তার জীবনের সময়টাও অনেক সময় ছোট হয়ে আসে। ব্রিটিশ চিন্তাবিদ বার্ট্রান্ড রাসেল বলেন- কাজের মাহাত্ম্য বর্তমান পৃথিবীর অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলছে!
কাজের পরিমাণ

তাহলে কাজের পরিমাণ ঠিক কতটা হওয়া উচিত? গবেষণায় দেখা যায় সপ্তাহে খুব মন দিয়ে একটা মানুষ মাত্র ৫০ ঘন্টাই কাজ করতে পারে। তাই অনেক বেশি কাজে বিশ্বাসী অনেক প্রতিষ্ঠানও আজকাল কম কাজ, অধিক সাফল্য কথাটিতে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রিয়.কমের টিম কথা বলে উইকিপিডিয়ার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর, যমুনা টিভির অনুষ্ঠান গবেষক ও ক্যম্পাস টু ক্যারিয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা জাহিদ হোসেন খান আশার সাথে। কাজ ঠিক কতটুকু করা উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন- “মাথায় যদি কাজের পরিধি আর নিজের সক্ষমতার হিসেব রাখা যায় তাহলে যে কোন কাজ যে কোন মাত্রায় করা যায়।এটা অনেকটা ক্রিকেট খেলার মত। আমি যদি আমার খেলার দক্ষতা আর মাঠের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জেনে নামি একমাত্র তাহলেই সাকিব হওয়া যায়।”
তবে কি কম কাজ?

বেশি পরিমাণে কাজ করলে সফলতার পরিমাণ বেশি করা যাবেনা বলে যে কাজ অনেক কম করতে হবে তা কিন্তু নয়। অনেক এশি কাজ করলে ক্লান্তি আসে বেশি, জড়তা দেখা যায় কাজের ভেতরে, ভাবনার জায়গাটা কমে যায় বিশ্রামের অভাবে, সব কাজ গুছিয়ে ওঠা যায়না, হতাশা কাজ করে এবং সফলতা কমে যায়। কিন্তু তারমানে এই নয় যে কাজ একেবারে না করলেই তাহলে সফলতা বেড়ে যায়। প্রিয় লাইফ টিমকে জাহিদ হোসেন খান আশা এ নিয়ে বলেন-” কাজ কম-বেশি করার উপরে সাফল্য নির্র্ভর করে না।”

এবং সত্যি বলতে গেলে ব্যাপারটা ঠিক তাই! কাজ অনেক বেশি না করে যথার্থ পরিমাণে করলেই সেটাতে সাফল্যের পরিমাণটা হয় বেশি

পোষ্টটি লিখেছেন: Ayon Hasan

Ayon Hasan এই ব্লগে 135 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Check Also

বিয়ের জন্য জে জেলার ছেলেরা যেমন

বিয়ের জন্য জে জেলার ছেলেরা যেমন

বিয়ের আগে ছেলেরা অনেক টাংকি মারে। তবে বিয়ের পরে বউয়ের প্রেমে মশগুল থাকে। পরকীয়ার সম্ভাবনা ...

-->