মঙ্গলবার , ২৩ অক্টোবর ২০১৮
হোম » জাতীয় » নড়লেন তবে সরলেন না খালেদা
নড়লেন তবে সরলেন না খালেদা

নড়লেন তবে সরলেন না খালেদা

১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কাকতালীয়ভাবে ১৫ আগস্ট আবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনও। অবশ্য এই জন্মদিন নিয়ে বিতর্কও আছে। সে কারণে এই দিনটি পালনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল একেবারে বিপরীত অবস্থানে। শোক দিবসকে ঘিরে একদিকে থাকে আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচি, অন্যদিকে চেয়ারপারসনের জন্মদিন উদযাপনে বিএনপির থাকে আনন্দ আয়োজন।

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর থেকে একটা লম্বা সময় তার নাম বাংলাদেশে উচ্চারণে একরকমের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। এরমধ্যে নব্বই দশক নাগাদ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর খুন হতে হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকেও, দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা, রাজনীতিতে নামেন খালেদা জিয়া, অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে স্বৈরশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

মূলত সার্বক্ষণিক সাংঘর্ষিক একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এরইমধ্যে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ওই মেয়াদেই ১৫ আগস্টকে প্রথম জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মূলত ওই সময় থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ১৫ আগস্ট শোক দিবসের মর্যাদা হারায়। পরে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে আবার জাতীয় শোক দিবস ফিরিয়ে আনে।

১৫ আগস্ট বিএনপি প্রধানের জন্মদিন উদযাপন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা থাকলেও ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন থেকে বিরত থাকেননি খালেদা।

তবে সাধারণত প্রতিবছর ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে কেক কেটেই খালেদার জন্মদিন উদযাপন করা হলেও এবার ছিল ব্যতিক্রম। এবার খালেদা জিয়া কেক কাটলেন ১৫ আগস্ট রাত ৯টার পর।

কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আপনি দয়া করে ১৫ আগস্ট আপনার জন্মদিন পালন না করে ১৬ বা ১৭ তারিখ করেন। আপনি তো ইচ্ছা করে ১৫ তারিখ জন্মদিন পালন করেন। ১৫ তারিখ তো আপনার জন্মদিন না।’

এছাড়া বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও খালেদা জিয়াকে শোকের দিনে জন্মদিন উদযাপন না করার আহ্বান জানিয়ে পত্রিকায় নিবন্ধ লিখেছিলেন।

অন্যান্যবার খালেদা জিয়া রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করলেও এবার কেন করলেন না- জানতে চাইলে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান বলেন, ‘বেগম জিয়া কখনোই ব্যক্তিগতভাবে বা পারিবারিকভাবে তার জন্মদিন উদযাপন করেন না। তিনি মূলত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই জন্মদিন উদযাপন করেন। এ কারণেই রাতে তিনি কেক কাটেননি।’

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে আসা থেকে বিরত থাকেন বেগম জিয়া। তাই এ বছর সেরকম কোনো আয়োজন করা হয়নি।’

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। তবে শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শোক জানিয়েছেন তিনি।

১৫ আগস্টে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এ মাসেই একটি নালিশি মামলা করা হয় বরিশালে। পরে অবশ্য মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকেও বারবার তাকে আহ্বান জানানো হয়েছে এ দিনে জন্মদিন উদযাপন না করতে। জন্মদিন উদযাপন করা হলে মামলা করা হবে বলেও আওয়ামী লীগ সমর্থক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে।

পোষ্টটি লিখেছেন: Ayon Hasan

Ayon Hasan এই ব্লগে 135 টি পোষ্ট লিখেছেন .

-->