এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ পরামর্শ

মনোযোগী হওয়ার ১২ উপায় !

প্রিয় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীবৃন্দ তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার বাকি মাত্র আর কয়টা দিন। এ সময় তোমাদের আদেশ,উপদেশ বা নির্দেশ কোনটাই ভাল লাগবে না। তার পরও লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাল পরামর্শ কেউনা কেই পালন করবে এটাই প্রত্যাশা করছি। যারা কাঙ্খিত ফলাফলের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছ, তাদের অবশ্যই ভাল পরামর্শ গ্রহণ করা একান্ত দরকার।
আমার দীর্ঘ ২০ বছরের অধ্যাপনা জীবনে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তার আলোকে তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে কিছু পরামর্শ উপস্থাপন করছি। তোমাদের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৩ এপ্রিল। প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী কাঙ্খিত ফলাফলের জন্য কলেজে ভর্তির পর থেকেই সিলেবাস সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ন সময় অতিবাহিত করেছ। কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন কর এটাই কামনা করছি।

এখন শুধু পড়া বিষয়গুলো রিভিশন দেওয়ার পালা। পরীক্ষা নিয়ে বেশি চিন্তা করা এই মুহুর্তে আদৌ উচিৎ হবে না। মনে রাখবে পরীক্ষা ভয়ের নয়, উৎসবের। মনে করবে আমি যা পড়েছি এর মধ্যেই পশ্ন থাকবে। এ ক্ষেত্রে বইএর প্রতিটি অধ্যায়,প্রতিটি পাতা ভালভাবে পরলেই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে। পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে এবং পরীক্ষার সময় কতকগুলো বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। বিষয়গুলো হচ্ছেঃ
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে প্রবেশপত্র, রেজিঃ কার্ড অবশ্যই সাথে নিতে হবে। প্রবেশপত্রের ফটোকপি বাসায় রাখবে।মূল কপি বাসায় রেখে কখনই ফটোকপি পরীক্ষার হলে নিবেনা। এতে কিন্তু সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রবেশপত্র দেখে রোল নম্বর ও রেজিঃ নম্বর অবশ্যই লিখতে হবে। কোন ক্রমেই যেন রোল নম্বরের স্থলে রেজিঃ নম্বর এবং রেজিঃ নম্বরের স্থলে রোল নম্বর ভুলবশতঃ লেখা না হয়-এ দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভুল হলে কখনই ঘষা মাজা করা যাবেনা। কক্ষ পরিদর্শকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক বৃত্তটি ভরাট করতে হবে। সংখ্যা লেখায় ভুল হলে এক টান দিয়ে কেটে উপরের ফাঁকা অংশে সঠিক সংখ্যাটি লিখতে হবে।
প্রশপত্র পাওয়ার পর প্রশ্ন ভালভাবে পড়ে নিতে হবে। সহজ প্রশ্নের উত্তর আগে লিখলে ভাল হয়। মনে রাখতে হবে পরীক্ষার শুরুতে কোন জটিলতা দেখা দিলে পুরো পরীক্ষাটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।
এ বছর থেকে বহু নির্বাচনী পরীক্ষা আগে অনুষ্ঠিত হবে।এ ক্ষেত্রে সেট কোটের বৃত্তটি মনে করে পূরণ করে নিও।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কক্ষ পরিদর্শকের সাথে অবশ্যই নমনীয়তা বজায় রেখে পরীক্ষা দিতে হবে।একজন কক্ষ পরিদর্শকের মন মানুসিকতার উপর নির্ভর করে ঐ কক্ষের ছাত্র/ছাত্রীদের ভাল পরীক্ষা।
সময়ের দিকে লক্ষ্য রেখে পরীক্ষা দিতে হবে। উত্তরপত্র জমা দেওয়ার আগে ভালভাবে রিভিশন দিতে হবে।পরীক্ষার সময় বন্ধু-বান্ধবদের পরামশর্ ভেবে চিন্তে গ্রহন করবে। মনে রাখবে প্রকৃত বন্ধু কয়জন। অনেকে তোমার ভাল ফলাফল কামনা করতে পারে,আবার অনেকে তোমার ভাল ফলাফল কামনা করতে নাও পারে।
একটা স্বার্থান্বেষী গুজব ছড়িয়ে ভাল শিক্ষার্থীদেরকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করে থাকে। কখনও গুজবে কান দিবেনা। তুমি যা প্রস্তুতি নিয়েছ, তাতেই ভাল পরীক্ষা হতে পারে, এই বিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিলে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
সর্বশেষ তোমাদের ভাল ফলাফল কামনা করে এবং পরীক্ষার সময় তোমাদের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে শেষ করছি।
নিত্যানন্দ হালদার, প্রভাষক,রাজৈর ডিগ্রি কলেজ, রাজৈর, মাদারীপুর

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3297 টি পোষ্ট লিখেছেন .

পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন