হোম » জাতীয় » পকেট কাটতে হজযাত্রা!
52_DMP_molom+party_20082015103 (1)

পকেট কাটতে হজযাত্রা!

পকেট কাটতে হজযাত্রা!

হজের ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে হাজিদের ‘পকেট কাটে’- এমন তিন ব্যক্তিসহ প্রতারকদের দুটি চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।

পুলিশ বলছে, দুটি চক্রের মধ্যে একটি প্রতি বছর হজের সময় সৌদি আরবে লোক পাঠায় পকেট মারার জন্য। এবারও তারা তিনজনকে সৌদি আরবে পাঠাতে ১২ লাখ টাকা ‘ইনভেস্ট’ করেছে; তাদের লক্ষ্য ছিল হজ মৌসুমে এক কোটি টাকা তুলে আনা।

আর অন্য চক্রের সদস্যরা ঢাকা ও আশপাশের জেলায় বাসযাত্রীদের চেতনানাশক মেশানো আচার বা খাবার খাইয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে দ্বিতীয় চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা হলেন- নুরুল আানোয়ার, সুজন খান, আবুল বশার, আবুল হাসান, আক্তার হোসেন ও আবুল কালাম।

তাদের কাছ থেকে চেতনানাশক মেশানো আচারও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার নুরুল আনোয়ার প্রতারকদের এই চক্রটির নেতা। আর সুজন খান তার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।

মনিরুল বলেন, নুরুল আনোয়ার চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে আচার বানাতেন। বাসে বাসে ওই আচারের গুণাগুণ নিয়ে ‘লেকচার’ দিতেন আবুল বশার।

‘শিকার’ ওষুধ মেশানো আচার খেয়ে সংজ্ঞা হারালে দলের অন্যরা তার সর্বস্ব হাতিয়ে নিত বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রথম দলটিকে ধরার ঘণ্টাখানেকের মাথায় ‘হজ ঘিরে প্রতরাণায় জড়িত’ দ্বিতীয় দলের ছয়জনকে মালিবাগ রেলগেইট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান।

এই ছয়জন হলেন- ‘আলহাজ’ মো. টুটুল বিশ্বাস ওরফে সুমন, কাজী সারোয়ার জামাল ওরফে নেতাজি, ‘আলহাজ’ মো. ইব্রাহিম, মনির হোসেন, সাইফুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু এবং মো. আব্দুল গফুর।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টুটুল বিশ্বাস এই দলটির নেতা; আর জামাল তার ‘ডান হাত’।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আচার খাইয়ে বাসযাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি এই চক্রের কয়েকজন প্রতি বছর হজের সময় সৌদি আরবে যান। সেখানে হাজিদের ‘পকেট মারাই’ তাদের উদ্দেশ্য।

এ বছরও গ্রেপ্তার গফুর, টুটুল এবং মো. রওশন নামের আরেকজনের সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তাদের ভিসাসহ পাসপোর্ট পুলিশ জব্দ করতে পারলেও রওশনকে ধরা যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সৌদি আরবে পকেট মারতে গিয়ে ধরা পড়ে এই গ্রুপের কয়েকজন সেখানে জেলে আছেন বলেও জাহাঙ্গীর জানান।

“এই বছর সৌদি আরব যাওয়ার জন্য তারা ১২ লাখ টাকা ইনভেস্ট করেছিল। তাদের টার্গেট ছিল হজের মৌসুমে সেখান থেকে এক কোটি টাকা আয় করা। গফুর দলের সদস্যদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে নেবেন বলে চুক্তি হয়েছিল।”

হজের সময়ের মধ্যে ওই ‘টার্গেট’ পূরণ না হলে আরও কিছুদিন তাদের সৌদি আরবে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান জাহাঙ্গীর।

এই চক্রের সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, হজের মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে পকেটমাররা সৌদি আরবে যায়। তাদের মধ্যে নাইজেরিয়ার পকেটমারের সংখ্যাই বেশি।

আর ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের ‘সাদাসিধে’ মনে করা হয় বলে তাদের দিকে পকেটমারদের ‘নজর’ বেশি থাকে।

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশে এ ধরনের প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের ভাষায় এরা ‘অজ্ঞান পার্টি’ হিসাবে পরিচিত।

এদের খপ্পরে পড়ে চেতনানাশক ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। অনেকে আবার সর্বস্ব হারিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন।

যুগ্ম কমিশনার মনিরুল বলেন, “পুলিশ জনস্বার্থে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন- সেজন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।”

পোষ্টটি লিখেছেন: Ayon Hasan

Ayon Hasan এই ব্লগে 135 টি পোষ্ট লিখেছেন .

-->