শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য যা যা পড়বেন

১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন কি ভাবে -বিস্তারিত আলোচনা
Loading...

বাংলা : স্কুল ও কলেজ-উভয় পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্নই করা হয় ব্যাকরণ থেকে। ভাষারীতি ও বিরামচিহ্ন, সারসংক্ষেপ, ভাবসম্প্রসারণ, বাগধারা ও বাগবিধি, পত্রলিখন, ভুল সংশোধন ও সমাস-এ বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন করা হয় স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষায়। কলেজ পর্যায়ে এসব বিষয়ের পাশাপাশি সমার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন করা হয়। অষ্টম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাজমুল হোসেন জানান, বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটি বেশ কাজে দেবে। এ ছাড়া বোর্ড অনুমোদিত মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্যান্য বাংলা ব্যাকরণ বই পড়লে উত্তর করা সহজ হবে।

ইংরেজি : চেঞ্জিং ওয়ার্ডস ফ্রম ওয়ান পার্টস অব স্পিচ টু অ্যানাদার অ্যান্ড মেকিং সেন্টেন্স উইথ দেম, ট্রান্সলেশন (ইংরেজি থেকে বাংলা ও বাংলা থেকে ইংরেজি), প্যারাগ্রাফ/রিপোর্ট/ ডেসক্রিপশন রাইটিং, ট্রান্সফরমেশন অব সেন্টেন্স থেকে প্রশ্ন করা হয় স্কুল পর্যায়ে। কলেজ পর্যায়ে এগুলোর পাশাপাশি কমিপ্রহেনসিভ কোয়েশ্চেন, কমপ্লিটিং সেন্টেন্স, ভয়েস চেঞ্জ, ন্যারেশন, রাইট ইউজেজ অব ভার্ব থেকেও প্রশ্ন করা হয়। তবে ট্রান্সফরমেশন অব সেন্টেন্স থেকে কোনো প্রশ্ন আসবে না কলেজ পর্যায়ে। মাধ্যমিক পর্যায়ের গ্রামার বই পড়লেই এ অংশে ভালো করা যায়। গেলবারের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দিদার হোসেন জানান, কেবল পরীক্ষার আগ-মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ইংরেজিতে ভাল নম্বর পাওয়া কঠিন। ভাল নম্বর পাওয়ার জন্য তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ট্রান্সফরমেশন অব সেন্টেন্স, কমপ্লিটিং সেন্টেন্স, ভয়েস চেঞ্জ, ন্যারেশন প্রভৃতির উত্তর করার সময় মাথায় রাখতে হবে গ্রামারের বিষয়টি।

গণিত : গণিত অনেকের কাছেই তুলনামূলকভাবে কঠিন। চর্চা করলে এ বিষয়েই সবচেয়ে ভালো নম্বর তোলা সম্ভব। সরল, গড়, ল.সা.গু, গ.সা.গু, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত, সমানুপাত, উৎপাদক, বর্গ ও ঘন সম্পর্কিত সূত্রাবলি ও প্রয়োগ, সেট, ফাংশন, সূচক, লগারিদম, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি-এসব বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয় স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষায়। নাজমুল হোসেন জানান, পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি-গণিতের প্রতিটি অংশে জোর দিতে হবে। সূত্রগুলো মুখস্ত রাখতে হবে, নিয়মিত চর্চা করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গণিতে কিছু সমস্যা থাকে, যার সমাধানে অনেক সময় লেগে যায়। কৌশলী না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা যায় না। এর জন্য জানতে হবে সংক্ষপ্তি পদ্ধতি।

সাধারণ জ্ঞান : অন্য তিনটি বিষয়ের তুলনায় সাধারণ জ্ঞানের পরিধি বড়। সিলেবাসও সুনির্দিষ্ট নয়। এ অংশে মূলত বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন করা হয়। বাংলাদেশ অংশে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নদ-নদী, খাল-বিল, কৃষি, খনিজ সম্পদ বিষয়ে প্রশ্ন আসে। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে বিভিন্ন দেশের রাজধানী, মুদ্রা, আন্তর্জাতিক দিবস, পুরস্কার, গোয়েন্দা সংস্থা, স্বাধীনতাকামী সংগঠন, খেলাধুলা, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংগঠন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক সীমারেখা বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। দৈনন্দিন বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকলেই উত্তর করা যায়। মাধ্যমিক পর্যায়ের সামাজিক বিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞানের বই পড়লে এ বিষয়ে ভালো করা যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি জানার জন্য নিয়মিত পড়তে হবে দৈনিক পত্রিকা।

ঐচ্ছিক বিষয় : ২০১২ সালের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রনি তালুকদার জানান, ঐচ্ছিক বিষয়ে নেওয়া হবে লিখিত পরীক্ষা। যে বিষয়ে আবেদন করেছেন, পরীক্ষা হবে সে বিষয়েই। পরীক্ষায় ভালো করতে হলে সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। বিগত কয়েক বছরের প্রশ্ন দেখলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ৫টি রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর করতে হয়, প্রতিটিতে নম্বর থাকে ১৫। সংক্ষপ্তি প্রশ্নও থাকে ৫টি, প্রতিটির মান ৫। প্রতিটি প্রশ্নের একটি করে অথবা থাকে। বাজারে প্রায় প্রতিটি ঐচ্ছিক বিষয়ে বই পাওয়া যায়। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এসব বই কাজে দেবে।

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3317 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন