নিবন্ধন সনদধারীদের নিয়োগ নিয়ে….

Loading...

 

 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধ সনদধারীর সঠিক সংখ্যা কত তা জানা খুব কঠিন কাজ নয়। তবে, নিবন্ধনধারীরা সবাই চাকরি বাজারে নেই এ কথা হলফ করে বলা যায়। অনেকেই নিয়োগ পেয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। কেউবা নিবন্ধনধারী হলেও অন্য পেশায় গেছেন। শিক্ষকতায় আসবে না বলে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবার অনেকেরই রয়েছে দুটি সনদ। তারা স্কুল অথবা কলেজের যে কোনো একটিতে নিয়োগ পেয়ে সন্তুষ্ট। সব বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, শিক্ষক নিবন্ধনধারীর সংখ্যা ৬ লাখের বেশি। NTRCA human cchain
এবার আসল কথা শুরু করি। ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা এন্ট্রি লেভেলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করার অথবা সরাসরি নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ কোথায় তা জানতে ঘুরছি এ দুয়ার থেকে ও দুয়ার। এন্ট্রি লেভেল বলতে বুঝেছি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক বা প্রভাষক অথবা যেসব পদে অভিজ্ঞতা দরকার নেই এমন সব শিক্ষকতার পদ। গত বছর নিয়োগ পরীক্ষার বিধান পরিবর্তন ও কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাবান করা হয়েছে। পরীক্ষা ও নিয়োগের নতুন পদ্ধতি নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিংবডির ক্ষমতা হ্রাস করেছে সরকার। এন্ট্রি লেভেলে নিয়োগের পদ্ধতিটি উল্লেখ করা হয়েছে। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকটি পদে নিয়োগের বিষয় খোলাসা করে বলে দিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা এন্ট্রি লেভেলে নিয়োগ পেতে চাই্। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করে আমার মতো আরো ৬ লাখ ঘুরছেন পথে পথে। আমাদের কী হবে তা অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে।
মেধা তালিকার খবর নেই। নিয়োগ পাওয়ার দাবিতে উত্তীণরা একটি কমিটি করে প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধনও করেছে ফেব্রুয়ারি মাসে । প্রকাশ্য মেধা তালিকার অভাবে যে যার খুশীমতো জেলা উপজেলায় প্রথম-দ্বিতীয় ঘোষণা করে ফেসবুকে লিখে চলছেন। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ নেই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মচারিরা ওখানে চাকরি করেন। জীবন-মরণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব প্রাপ্তরা কারো কাছে জবাবদিহি বলে মনে হয় না।
নতুন পদ্ধতিতে ১৩তম পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলো। আবেদন নেয়া হলো।৬ লাখের বেশি আবেদনকারী। কর্তৃপক্ষের রোজগার প্রায় ২২ কোটি টাকা। পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলো। ৭ তারিখের কলেজের পরীক্ষা পেছানোর ঘোষণা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও দেখতে পাই কিন্তু ৬ তারিখের পরীক্ষা পেছানোর কোনো ঘোষণা না মন্ত্রণালয়ে না নিবন্ধন অফিসের ওয়েবসাইটে পাই। প্রবেশপত্রে লেখা ৬ তারিখ স্কুলের পরীক্ষা। তবে, দুটো পরীক্ষাই যে ১৩ মে হবে তা জানার জন্য একমাত্র ভরসা দৈনিকশিক্ষার খবর।
আবার শুনলাম সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছেন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। সব প্রতিষ্ঠানকে শূন্য আসন সংখ্যা জানানোসহ নিবন্ধন করতে হবে ৭ মে’র মধ্যে। আমার প্রশ্ন হলো গত বছর উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে যে শূন্য আসনের তথ্য নেয়া হলো তা কোথায়? কী জন্যে নেয়া হয়? শুধুই কী লোক দেখানো? আমাদের সান্তনা দেওয়ার জন্য?
আবার ফিরে আসি আসল কথায়। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে তাবৎ পত্র-পত্রিকার সাংবাদিক আর শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউ আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারে নাই পুরনো নিবন্ধধারীদের নিয়োগের বিষয়ে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শুনলাম নতুন বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ শুরু হবে। জানুয়ারির শেষে শুনলাম শিগগিরেই শুরু হবে। মার্চে শুনলাম এপ্রিলে শুরু হবে। এপ্রিল শেষে মে শুরু। মন্ত্রী এখনও কিছু বলেছেন বলে জানা নাই। সব খবরই শুনেছি পত্রিকা থেকে। এই পত্রিকার সাংবাদিকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে শিক্ষার সব স্তর থেকেই ভেতরের খবর সবার আগে বের করে আনতে পারেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-নিবন্ধনধারীদের সঠিক নির্দেশনাও দেন।
নতুন পদ্ধতিতে দুটি পরীক্ষাই হবে ১৩ তারিখ, মানে আনলাকি থার্টিন! ১১ মে এস এস সি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা।
এর আগের ১১দিন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আমলারা বলবেন তারা পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। ১৩ তারিখ পার হয়ে গেলে বলবেন প্রিলিমিনারির পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে ব্যস্ত! হঠাৎ এক রাতের বেলায় দৈনিকশিক্ষায় দেখবো ফল প্রকাশ হয়েছে।
এরপর নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ বলবেন আগস্ট মাসের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিছুদিন পর বলবেন খাতা দেখা চলছে। তারপর অক্টোবরের শুরুতে লিখিত পরীক্ষার ফল ঘোষণা করে একই মাসের শেষে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে? পাসের হার ১০ শতাংশ করে নভেম্বরের শুরুতে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবেন? শুধু ১৩তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ করে দেবেন? স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষকে অপশন দিলে নতুন ও পুরাতনদের মধ্যে নতুন পদ্ধতিতে নিবন্ধন পাসকৃতদের নিয়োগ দেবেন এটাই স্বাভাবিক।
নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের এহেন অপকর্মের প্রতিবাদ করলে বলবেন ১৩তম পরীক্ষার জন্য আবেদন চেয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল,‘পূর্বে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাও ১৩তম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এর মানে হলো আপনাদেরকে বলা হয়েছিল নতুন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে, আপনারা নেননি’। ‘নিয়োগ ও নিযোগ পরীক্ষার জন্য এখন নতুন বিধান কার্যকর। আপনাদের সনদগুলো পুরনো বিধানের।’ ‘১ম-১২তম সনদগুলো ছিল শিক্ষক হিসেবে আবেদন করার যোগ্যতা অর্জনের সনদ। আর ১৩তম উত্তীর্ণরা হবেন নিয়োগের জন্য অংশ নেওয়া পরীক্ষার সনদধারী’। তাছাড়াও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নতুনদের গ্রহণ করলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কী-ই বা করার আছে?
সুতরাং আপনারা ভুল করেছেন, ভুলের মাশুল দিতে থাকেন! আমরা ১৪তম পরীক্ষার আবেদন আহ্বান করতে যাচ্ছি!
লেখক : এবাদুর রহমান, নিবন্ধনধারী ও রেজাল্ট বিডির ভক্ত পাঠক।

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3317 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন