স্মার্টফোনের যুগ শেষ হচ্ছে, এরপর কী আসছে মানুষের হাতে?

Loading...

স্মার্টফোনের প্রযুক্তি বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। এবার সে প্রযুক্তির চমক দেখানোর পালা শেষ হচ্ছে। সেসঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন সবার মনে- কী আসছে এর পরের প্রযুক্তি? এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

স্মার্টফোনের বিক্রি ইতোমধ্যেই তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান বলে এর পরই মন্দা নামবে স্মার্টফোনের বিক্রিতে। অ্যাপল, স্যামসাং ও অন্যান্য বিশ্বসেরা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিয়ে এ বাজার ধরার কাজ করে এসেছে এতদিন। কিন্তু এবার যখন স্মার্টফোন বাজার প্রায় পূর্ণতা পেয়েছে তখন একটা চিন্তা তাদের সবাইকেই ভাবাচ্ছে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে কোন বিষয়টি স্মার্টফোনের পরের স্থান দখল করবে, তা এখন সবার চিন্তার বিষয়।
এদিকে স্মার্টফোনের বাজারে মন্দাভাব আসার লক্ষণ কয়েক মাস ধরে তীব্রভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। সম্প্রতি অ্যাপল তাদের বছরের প্রথম প্রান্তিকের বিক্রি কমে আসার ঘোষণা দিলে সবাই নড়েচড়ে বসে। গত ১৩ বছরের মধ্যে এই প্রথম অ্যাপল আইফোন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। ফলে বিকল্প খুঁজে দেখতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে পার্সোনাল কম্পিউটারও একই ভাগ্য বরণ করেছে। ফলে সময় এসেছে পুরনো সব প্রযুক্তি বাদ দিয়ে নতুন কোনো প্রযুক্তি খুঁজে বের করার।

এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষক সংস্থা টেকনালাইসিস রিসার্চ-এর প্রধান বিশ্লেষক বব ও’ডনেল জানিয়েছেন, ‘আমরা বর্তমানে পরিষ্কারভাবে এমন এক যুগে প্রবেশ করছি যেখানে সাধারণ যন্ত্রগুলোর প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। ফলে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ভেবে দেখতে হবে।’
এটা পরিষ্কার নয় যে, ভবিষ্যতের বড় প্রযুক্তি কোনটা আসতে যাচ্ছে। তবে স্মার্টফোন ও তাদের সংশ্লিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস-এর মতো বিষয় থেকে তা সম্পূর্ণ পৃথক হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অ্যাক্সেটচার্স কমিউনিকেশনস, মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন কারান বলেন, ‘পরিণত স্মার্টফোনের বাজারে এখন আর ক্রেতারা নতুন পণ্য কিনতে ইতস্তত করছেন না।’

তিনি বলেন, ‘তারা মূলত তাদের বর্তমান ডিভাইস নিয়েই সন্তুষ্ট।’
এছাড়া বর্তমানে বহুধরনের পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে যেমন স্মার্টওয়াচ, হোম অটোমেশন সিস্টেম, ড্রোন ইত্যাদি। তবে এগুলোর কোনোটিই সেভাবে সাড়া ফেলতে পারছে না। কারণ এগুলোতে এখনও মানুষ জীবনের ছোঁয়া খুঁজে পাচ্ছে না।

তাহলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কোনটি হতে যাচ্ছে? এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কোনটি হচ্ছে তা সেভাবে বোঝা না গেলেও কয়েকটি লক্ষণে বিষয়টি কেমন হবে তার অনেকটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির গবেষক র‌্যামন লিয়ামাস বলেন, ব্যবহারকারীরা চান ভবিষ্যতের প্রযুক্তি যেন হয় পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে স্মার্টফোনের প্রাধান্য রয়েছে। কিন্তু এটি অন্য যন্ত্রপাতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকা চাই।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ চায় স্মার্টফোন যেন আপনার বাড়ির নিরাপত্তা ও অন্যান্য পরিধানযোগ্য যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।’

বর্তমানে স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ব্রান্ড ও স্মার্ট হোম প্রযুক্তির বিক্রি বাড়ছে। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের কারণে জটিলতা বাড়ছে।
ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকেই আলাদা করে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। তাই অনেকে বলছেন নতুন যে প্রযুক্তি সবার নজর কাড়বে তা হতে পারে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি কিংবা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো যে কোনো বিষয়।

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3297 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন