হোম » অন্যান্য » ইবি শিক্ষকের বাসার আলমারিতে ছাত্রী!

ইবি শিক্ষকের বাসার আলমারিতে ছাত্রী!

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বাসার আলমারিতে থাকার কথা কাপড়-চোপড় আর মূল্যবান জিনিসপত্র। কিন্তু সেই আলমারিতেই পাওয়া গেলো ‘জীবন্ত পুতুল’! এই পুতুল বাজার থেকে ক্রয় করা কোন পুতুল নয়। বরং এই পুতুল হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী।

বাসাটি একই বিভাগের প্রভাষক আবদুল হালিমের। এ দিকে শিক্ষকের বাসার আলমারি থেকে ছাত্রী উদ্ধারের ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সর্বমহলে চলছে ক্ষোভ আর ধিক্কার।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র মতে, গত মঙ্গলবার বিকালে ঝিনাইদহ শহরের সিটি কলেজের সামনে অবস্থিত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক আবদুল হালিমের বাসায় একই বিভাগের ছাত্রী সাবিরা সুলতানা পুতুল প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় যুবকদের একটি গ্রুপ ঐ বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। দীর্ঘক্ষণ দরজায় শব্দ করার পর শিক্ষক আবদুল হালিম দরজা খুলে দেন। এসময় তার বাসায় যে মেয়েটি প্রবেশ করেছে সে কোথায় তা জানতে চায়। কিন্তু আবদুল হালিম বাসায় কোন মেয়ে থাকার কথা অস্বীকার করে।

এসময় বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার একপর্যায়ে আলমারির কড়া নড়ে ওঠে। ঐ যুবকরা তালাবদ্ধ আলমারিতে আঘাত করলে ভেতর থেকে নারী কণ্ঠের আর্তনাদ ভেসে আসে। পরবর্তীতে তালা খোলা হলে আলমারি থেকে প্রায় বিব্রত ওই ছাত্রী বের হয়ে আসে।

এ সময় স্থানীয় যুবকরা শিক্ষক আবদুল হালিম ও ছাত্রীকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এর কিছুক্ষণ পর পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ড. সাজ্জাদ হোসেন, ভিসির একন্ত সহকারী মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা গিয়ে স্থানীয় যুবকদের নিবৃত করে ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেন।

স্থানীয় যুবক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই ঐ ছাত্রী আবদুল হালিমের ব্যাচেলর বাসায় যাতায়াত করে। প্রায়ই আমরা তাকে দেখতাম। মঙ্গলবারও ঐ ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে বিকাল ৫টার দিকে ওই বাসায় প্রবেশ করতে দেখে আমরা তাকে অনুসরণ করি। প্রায় আধাঘণ্টা পর আমরা ওই বাসায় গিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থায় আলমারি থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করি।’

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক ও ছাত্রীকে অপ্রীতিকর অবস্থায় আটককারী স্থানীয় যুবকরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ওই শিক্ষকও আওয়ামীপন্থি হওয়ায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর নির্দেশে স্থানীয় যুবকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার ঝিনাইদহ যাইনি। এই ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে প্রমাণসহ এই বিষয়ে কথা বললে তিনি চুপ থাকেন।’

অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল হালিমের মুঠোফোনে অসংখ্যবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি। –

পোষ্টটি লিখেছেন: Ayon Hasan

Ayon Hasan এই ব্লগে 135 টি পোষ্ট লিখেছেন .

-->