শিক্ষক নিযোগ বিজ্ঞপ্তি: আবেদনের সকল নিয়ম জেনে নিন

সারা দেশের (পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ব্যতীত) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)-এর আওতায় প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৪৪০ জনকে নিয়োগ করা হবে। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিভিন্ন পত্রিকায় ও তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়োগে শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। এরই মধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। তাই লক্ষ্য যাঁদের শিক্ষক হওয়ার, আবেদনের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে পদটিতে আবেদন করতে পারেন এখনই। এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে www.dpe.gov.bd এই ঠিকানায়।

যেসব জেলার উপজেলা বা থানার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট। নাটোর: লালপুর। রাজশাহী: বাঘা। কুষ্টিয়া: দৌলতপুর, ভেড়ামারা। মাগুরা: শ্রীপুর। নেত্রকোনা: কলমাকান্দা ও কেন্দুয়া। টাঙ্গাইল: ঘাটাইল। রাজবাড়ী: পাংশা। শরীয়তপুর: ডামুড্যা। ময়মনসিংহ: ভালুকা, তারাকান্দা। কিশোরগঞ্জ: তারাইল। ঢাকা: মোহাম্মদপুর, রমনা ও ডেমরা। ফরিদপুর: নগরকান্দা, মধুখালী। জামালপুর: মাদারগঞ্জ। লক্ষ্মীপুর: রামগতি, কমলনগর। চট্টগ্রাম: কোতোয়ালি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া: কসবা। নোয়াখালী: সুবর্ণচর। পঞ্চগড়: দেবীগঞ্জ। কুড়িগ্রাম: চিলমারী ও ফুলবাড়ী। ভোলা: লালমোহন। সুনামগঞ্জ: সদর, দোয়ারাবাজার।

আবেদনের যোগ্যতা
এ পদে আবেদনের জন্য পুরুষ প্রার্থীদের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি/সমমানের জিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পাস হতে হবে। অন্যদিকে, মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/সমমানের জিপিএসহ উত্তীর্ণ অথবা স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। উভয় প্রার্থীদের বয়স ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩০ অথবা ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন
এ পদে প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। http://dpe.telelalk.com.bd এবং www.dpe.gov.bd এই ওয়েবসাইটে লগ ইন করলে একটি লিংক পাওয়া যাবে। এই লিংকে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করে সাবমিট করার পর অ্যাপ্লিকেশন কপি প্রিন্ট করতে হবে। সঠিকভাবে পূরণকৃত অ্যাপ্লিকেশন কপির ইউজার আইডি দিয়ে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। একবার আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর অ্যাপ্লিকেশন ফরম কোনো অবস্থাতেই সংশোধন বা প্রত্যাহার করা যাবে না। শুধু ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা উক্ত সময় পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফি প্রদান করতে পারবে। আবেদনকারীকে একটি ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। এই ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সব সময়ের জন্য প্রার্থীকে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি বাবদ অফেরতযোগ্য সার্ভিস চার্জসহ ১৬৬.৫০ টাকা যেকোনো টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে যথাসময়ে প্রেরণ করতে হবে।

নির্বাচন পদ্ধতি
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক পদে এর আগে ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। বাংলা গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকত। তবে এবারের নিয়োগে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব পরীক্ষার তারিখ পরে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত শিক্ষাগত যোগ্যতা-সম্পর্কিত সব মূল বা সাময়িক সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।

বেতনাদি
চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১০ হাজার ২০০ (গ্রেড ১৪) টাকা স্কেলে বেতন পাবেন। আর প্রশিক্ষণবিহীন একজন সহকারী শিক্ষক ৯ হাজার ৭০০ (গ্রেড-১৫) টাকা স্কেলে বেতন পাবেন।

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3317 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন