শিক্ষক নিবন্ধনের আসল সনদ বিক্রির সিন্ডিকেট চিহ্নিত

Loading...

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের আসল সনদ বেচাকেনা চলে দীর্ঘদিন যাবত। পরীক্ষায় পাসও করিয়ে দেয় টাকার বিনিমিয়ে। ১০ম পরীক্ষার আগে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়। তাদেরকে ১১তম পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান বদলি হয়ে নতুন চেয়ারম্যান আসায় আবার সব ওলটপালট হয়। ১১ ও ১২তম পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেয়ার চুক্তিতে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা লেনদেন হয় কিন্তু অধিকাংশই ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত নিয়ে এখনও দেনদরবার চলে নায়েম ক্যম্পাসে।

দৈনিকশিক্ষাডটকমের সাংবাদিকদের কয়েকমাসের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আসল রহস্য। সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা গেছে। সিন্ডিকেটে জড়িত নিবন্ধন কর্তৃপক্ষেরই সিস্টেম এনালিস্টসহ কয়েকজন। সিস্টেম এনালিস্টের একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে বলে অভিযোগ। আলাদা পাসপোট ব্যবহার করে সরকারের বিনা অনুমতিতে বিদেশে ভ্রমণও করেন তিনি।

নিবন্ধন সনদ কেনার মোয়াক্কেল যোগাতে সহায়তা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ড্রাইভার আলাউদ্দিন ও তার ভাই মো. ইউসুফ, ডিআইএ থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে দালালি করা মো. জালাল, আজিজ ও অধিদপ্তরের কর্মচারি মো. নাসিরসহ কয়েকজন। নায়েমের কয়েকজন কর্মচারিও রয়েছেন। চক্রটি বিপদে পড়লে রক্ষা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারি সমিতির কয়েকজন নেতা নিবেদিত রয়েছেন। সিন্ডিকেট যারা ধরতে চান ও শাস্তি দিতে চান সেইসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে বেনামীতে অভিযোগ জমা ও তদন্ত করানোর জন্যও কাজ করে মন্ত্রণালয়ের কর্মচারি সমিতির কয়েকজন দুষ্টু নেতা। আবার এদের চাহিদামতো প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য অগ্রহণযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার নামধারী সাংবাদিকও রয়েছেন। সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমপিদের ডিও লেটার যোগাড় করার লোক রয়েছে এই চক্রের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নরেশ চন্দ্র মন্ডল নামে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের একজন প্রভাষক ১০ লাখ টাকায় একটি আসল সনদ কিনেছেন সম্প্রতি। সনদটির ফটোকপি দৈনিকশিক্ষার হাতে রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, ফল প্রকাশের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ। কর্তৃপক্ষের সচিব ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর আসলের সঙ্গে হুবহু মিল। নরেশের রোল নম্বর ১৫৭০৯৬৫। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নরেশকে পাস দেখানে হয়েছে। নিবন্ধন নং ০৫৪০৯৫০৯/২০০৫।

নিয়োগ পেয়ে নরেশ চন্দ্র মন্ডল ২০১২ খ্রিস্টাব্দে এমপিওভুক্ত হয়েছিলেন ৫০ হাজার টাকায় কেনা একটি জাল নিবন্ধন সনদ দেখিয়ে। ওই সনদটি নিবন্ধন পরীক্ষা ২০০৮ এর। ৫০ শতাংশ নম্বর দেখিয়েছেন। সনদের গায়ে লেখা রেজি নং ৮০০১৮১১৯/২০০৮। রোল ৩-৩১৩১৫৬। ফল প্রকাশ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নরেশের সনদটি জাল হিসেবে চিহ্নিত করেন ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর। ধরা খাওয়ার পর নরেশ আসল সনদ বিক্রি চক্রের সন্ধান পায়। তিন দফায় ১০ লাখ টাকা পরিশেষ করেন। টাকা হস্তান্তরের জন্য নিরাপদ জায়গা নায়েমের ক্যান্টিন ও আবাসিক কক্ষ।
ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়েরই সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক রাধারানী সরকারের নিবন্ধন সনদটিও জাল বলে মত দেয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। রাধারানীও আসল সনদ কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন। সনদ হাতে পাবেন শীঘ্রই। এরপরই তিনি এমপিওভুুক্তির জন্য আবেদন করবেন।
দৈনিকশিক্ষার অনুসন্ধান চলবে।

সুত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3297 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন