শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর ছলচাতুরি দেখুন এবার

teacher-exam_26353

শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন (এনটিআরসিএ) কর্তৃপক্ষ গত ২০ জুলাই থেকে অনলাইনে আবেদন (ইএপ্লিকেশন) ফরম ছেড়েছে। প্রায় ছয় লাখ নিবন্ধনধারী এই ইএপ্লিকেশন ফরম পূরণ করছেন বলে আমার ধারণা। নিবন্ধনধারীরা নিজ বিষয়ের ওপর সারা দেশে যত খুশি তত আবেদন করতে পারবেন।

তবে নিজ এলাকার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।একজন প্রার্থীকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে একটি করে আবেদন করতে হবে।এনটিআরসিএকে প্রতিটি আবেদনের জন্য ১৮০ টাকা করে দিতে হবে।একজন ব্যক্তি একাধিক বিষয়ের নিবন্ধনধারী হতে পারে।কেউ যদি ৪টি বিষয়ে নিবন্ধন করে থাকেন এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১০টি করে প্রতিষ্ঠান বাছাই করে থাকেন তাহলে তার এনটিআরসি কে মোট ৪০টি আবেদনের জন্য দিতে হবে ১৮০ X৪০=৭২০০ টাকা।এছাড়াও প্রতিটি আবেদনের জন্য টেলিটক সিম দিয়ে কমপক্ষে ২টি করে মেসেজ পাঠাতে হবে এবং এতে খরচ হবে ৫ X ৪০=২০০ টাকা।একজন আবেদনকারীর খরচ হচ্ছে ৭২০০+২০০=৭৪০০ টাকা।

এ পরিমান খরচ হবে যদি আবেদনকারীর নিজস্ব কম্পিউটার,ইন্টারনেট,প্রিন্টার,প্রিন্টিং পেপারস ইত্যাদি সুবিধা থাকে। কিন্তু এ সুবিধা রয়েছে খুবই কম সংখ্যক নিবন্ধনধারীদের।কারণ, তাদের তো “ নুন আনতে আনতে পান্তা ফুঁরায়” অবস্থা।বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে তারা কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন।তারা এসকল আধুনিক সুবিধা পাবে কোথায়? তাদেরকে বাধ্য হয়ে কম্পিউটার দোকানের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।দোকান থেকে প্রতিটি আবেদনের জন্য ৩০০ টাকা করে নিচ্ছে।

তাহলে, উপরিউল্লিখিত সংখ্যক আবেদনের জন্য দিতে হচ্ছে ৩০০ X ৪০=১২০০০ টাকা।একজন বেকার ১২০০০ টাকা কীভাবে সংগ্রহ করবে? সে কি এনটিআরসিএর আবেদনের জন্য চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি করবে? সে কি ৪টি বিষয়ে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মহাপাপ করেছে? নাকি এনটিআরসি এ অর্থ সঙ্কটে ভোগছে? মোট নিবন্ধনধারী রয়েছে ৫লাখ ৮৭হাজারের উপরে। তারা যদি গড়ে ৫টি করে প্রতিষ্ঠানের আবেদন করে তাহলে এনটিআরসিএ’র টাকার পরিমান কত দাঁড়াবে? এনটিআরসিএ’র যদি টাকার প্রতি লোভ না থাকত তাহলে তারা প্রত্যেক নিবন্ধনধারীকে একটি আবেদনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কোড নাম্বার ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০টি বা ২০টি প্রতিষ্ঠান পছন্দ করার সুযোগ দিতে পারত।

এনটিআরসিএর ইএপ্লিকেশন ফরম পূরণে নিবন্ধনধারীরা বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে গত ১৪ জুলাই আবেদনকারীর যোগ্যতার মধ্যে কম্পিউটার বিষয়ের নিবন্ধনধারীদের ক্ষেত্রে উল্লেখ ছিল আগে যারা কম্পিউটার বিষয়ের উপর ৬ মাসের কোর্স করে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারাও আবেদন করতে পারবেন।তাই কম্পিউটার বিষয়ের ৬ মাসের কোর্স করা নিবন্ধনধারীরা আবেদন করতে থাকে।

কিন্তু হঠাৎ করে কোনো সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই ২৩ জুলাই কম্পিউটার বিষয়ের উপর ৬ মাসের কোর্স করে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারাও আবেদন করতে পারবেন কথাটি এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইট থেকে মুছে দেয়া হয়। এনটিআরসিএ’র একজন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাাম, ৬ মাসের কোর্স করে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যারা ২৩ তারিখ পর্যন্ত কম্পিউটার বিষয়ে আবেদন করে টাকা পাঠিয়েছেন তাদের কী হবে? তিনি জবাব দিলেন, তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে নাকি ওয়েবসাইট থেকে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট থেকে যে এ কথাটি মুছে ফেলা হয়েছে, তা ক’জনে জানে?অধিকাংশ নিবন্ধনধারীরাই দোকান থেকে আবেদন করে।প্রায় সব দোকনদাররাই প্রথমবার আবেদনের যোগ্যতা দেখার পর তা আর লক্ষ করে না সে মোতাবেক সবার আবেদন ফরম পূরণ করে। সুতরাং কম্পিউটার বিষয়ের অধিকাংশ নিবন্ধনধারীরাই আবেদন ফরম পূরণ করবে।

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাষা শিক্ষক (বাংলা/ইংরেজি) নিবন্ধন পরীক্ষা স্কুল-২ পর্যায়ে হয়। কিন্তু এনটিআরসিএ’র ইএপ্লিকেশন ফরমে তা স্কুল-২ এর মধ্যে না থেকে স্কুল পর্যায়ে রয়েছে।এই পদে সহকারী শিক্ষক বাংলা/ইংরেজি বিষয়ের নিবন্ধনধারীরা আবেদন করতে পারবে কি না তা স্পষ্ট করে লেখা নেই।এ জন্য বাংলা/ইংরেজি বিষয়ের নিবন্ধনধারীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে।

বাংলা/ইংরেজি বিষয়ের অনেক নিবন্ধনধারীরা এ পদের জন্য আবেদন করে এনটিআরসিএ’র কাছে টেলিটকের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন।তাদের আবেদন আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনেক প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন প্রায় ৬ লাখ নিবন্ধনধারী।

আবার অনকেই এনটিআরসিএ’র স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।তাদের যুক্তি হচ্ছে এনটিআরসিএ কেন বিগত নিবন্ধন পরীক্ষাগুলোর মেধাতালিকা প্রকাশ করার কথা বলেও প্রকাশ করে নি? যদি উপজেলা ও জেলা ভত্তিক বিগত নিবন্ধন পরীক্ষাগুলোর মেধাতালিকা প্রকাশ করা হতো তাহলে নিবন্ধনধারীরা সহজেই তাদের অবস্থান বুঝতে পারত।তাহলে সবাইকে আর আবেদন করতে হতো না।এটা কি এনটিআরসিএ বেশি টাকা পাওয়ার জন্য করেছে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করেছে।

আশা করি শিক্ষাবান্ধব মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিব এনটিআরসিএ’র এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে লাখলাখ বেকার নিবন্ধনকারীদের যাতে আবেদন করতে সহজ হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
সামিউল ইসলাম
মিরপুর,ঢাকা।

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3297 টি পোষ্ট লিখেছেন .

পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন