বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫
হোম » বিনোদন » রানা প্লাজা নিয়ে ভয়ঙ্কর খেলা এবং রেশমার রেকর্ড ভাঙ্গার পথে পরীমনি
রানা প্লাজা নিয়ে ভয়ঙ্কর খেলা এবং রেশমার রেকর্ড ভাঙ্গার পথে পরীমনি

রানা প্লাজা নিয়ে ভয়ঙ্কর খেলা এবং রেশমার রেকর্ড ভাঙ্গার পথে পরীমনি

ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে পারে নজরুল ইসলাম খান পরিচালিত ‘রানা প্লাজা’ সিনেমাটি নিয়ে। মূল চক্রান্ত আসলে কোথায়! ভাবনার আছে অনেক কিছু! নানা রকম সম্ভাব্য প্রশ্নও আসছে মাথায়। কিন্তু উত্তর নেই! তবে রেশমার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন পরীমনি। রেশমা ১৭ দিন বন্দী ছিল রানা প্লাজায়। আর পরীমনিকে ‘রানা প্লাজা’য় কমপক্ষে ১৮০ দিন বন্দী থাকতে হচ্ছে ।

ইতিপূর্বে সিনেমাটি ঘিরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এমন দোহাই দিয়ে সেন্সরবোর্ড চলচ্চিত্রটিকে আটকে দেয়। তারপর মহামান্য আদালত সিনেমাটি মুক্তি প্রদানের রুল জারি করে। ফলশ্রুতিতে কর্তন সাপেক্ষে মুক্তির তারিখ পেয়ে যায় ‘রানা প্লাজা’।

09সাভারের রানা প্লাজা ধ্বস এবং ১৭ দিন পর রেশমা উদ্ধারের গল্পকে নিয়ে একটি প্রেম উপাখ্যান তৈরি করতে চেয়েছেন পরিচালক। আদতে সিনেমায় সেটা কতটা উঠে এসেছে বা আদৌ সুনির্মিত সিনেমা কিনা সেটা মুক্তির পর বলা যাবে। তবে সিনেমাটি ঘিরে চক্রান্ত/নাটক চলছে মহাসমরোহে। বিশেষত সিনেমাটি যখন মুক্তি দেবার খুব সন্নিকটে ঠিক এরকম একটি সময় এই সিনেমায় ‘ভীতিকর চিত্র’ দেখানো হয়েছে অভিযোগ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত সোমবার আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও মেহেদী হাসান চৌধুরী। মহামান্য আদালত চলচ্চিত্রটি আগামী ৬ মাসের জন্য প্রদর্শনী এবং সম্প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সাথে এ সময়ে সিনেমাটির সেন্সর সার্টিফিকেটও অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন বা কোনো মাধ্যমে দেশে বা বিদেশে সম্প্রচার বা প্রচার করা যবে না। “১৯৭৭ সালের বাংলাদেশ প্রিন্ট সেন্সরশিপ রুলস অনুসারে ভীতিকর চিত্র প্রদর্শন করা যায় না। ভীতিকর টিভি ফুটেজ দেখানো, নিরাপত্তা বাহিনীর নাম ব্যবহারও ওই আইনের লঙ্ঘন। এসব যুক্তিতেই রিট আবেদনটি করা হয়।” শুধু তাই নয়, ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রের জন্য দেওয়া সেন্সর সনদ কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে আদালতের রুলে। তথ্য সচিব, চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান, এফডিসির এমডি ও চলচ্চিত্রটির প্রযোজককে চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এবার তাহলে কিছু ভাবনা তুলে ধরা যাক:

১. সেন্সর বোর্ড চলচ্চিত্রটি আটকে দিয়েছিল ‘শ্রমিক অসন্তোষ’ হতে পারে এই ভেবে। অর্থাৎ সিনেমাটি দেখে যদি শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে! তাহলে দেশে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু আমার ভাবনা ভিন্ন। কারণ শ্রমিকদের মাঝে যদি কোনভাবে এই কথাটা দানা বাধে যে ‘আমাদের বহু সহকর্মী বন্ধুকে হত্যা করার ঘটনা নিয়ে সিনেমা হয়েছে। অথচ সরকার সে সিনেমা দেখতে দিবে না!’ আর সেজন্য যদি কোন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার দায় কে নেবে!

২. পরিচালক নজরুল ইসলাম খান’র সাথে কথা হলো। তিনি চমৎকার একটি কথা বলেছেন। ‘ছুটির ঘন্টা’ সিনেমাটাও ছিল অমানবিক। একটি শিশুর নির্মম মৃত্যু ছিল সত্যিই ভীতিকর এবং বেদনাদায়ক। কিন্তু এই অমানবিক সিনেমাটা মুক্তির পর থেকে আজো বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজ ছুটির পর প্রতিটা কক্ষ এবং টয়লেট ভাল মতো চেক করে তারপর তালাবন্ধ করা হয়। কারণ এই অমানবিকতাই মানবতার জয়গান গেয়েছিল। ‘রানা প্লাজা’ তেমনি সচেতনতামূলক একটি সিনেমা। এই সিনেমা দেখে যদি ভবন নির্মাণে সচেতন হয়ে উঠেন আমাদের মহারথীগণ তবে সেটা কি অনেক বড় পাওয়া নয়!

৩. একটি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা আসাটাই স্বাভাবিক। এই সিনেমাতে আমাদের সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের বর্ণনাতীত ত্যাগ আর শ্রমের কথা না আসাটাই বরং বিকৃত গল্প হিসেবে চিহ্নিত হবে।

৪. সিনেমার প্রয়োজনে টিভি ফুজেট আসাটাও স্বাভাবিক যদি তা সত্য ঘটনা অবলম্বনে হয়। সব সময় সবকিছু ধারণ করা সম্ভব নয়। এখন কি তবে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমাতে সত্যিকারের গোলাগুলি না করে বা রিফিউজি না দেখিয়ে সে সময়ের টিভি ফুটেজ ব্যবহার করলে তাকে কি আইনের লঙ্ঘণ বলা হবে! যদি বলা হয়, তবে সে আইন নিয়ে ভাবার সময় হয়ত এসেছে।

৫. ইতিপূর্বে একটি আদালত সিনেমাটি মুক্তির ব্যাপারে রায় দিয়েছেন। কোন যুক্তিতে দিয়েছেন, সেটা জানতে চেয়ে কি রুল জারি হবে!

৬. রাষ্ট্রের শান্তি রক্ষা এবং নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এর মতো লোককেও এখানে যুক্ত করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে চাই না যে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে তিনি এখানে যুক্ত হবেন। নিশ্চয়ই উনার ভাবনা জুড়ে ছিল রাষ্ট্রের শান্তি। আর ঠিক এখানেই আমার ভাবনা ভিন্ন কিছু বলছে! রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে কেউ কি তাপস ভাইকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নিয়েছে! কারণ একদম প্রথম কথাটাই সামনে আনছি আবারো। আজ যদি সারা দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা বলে বসে যে, আমার সহস্র ভাই-বোনদের হত্যা করা হয়েছিল একদিন। আমরা তাদের স্মরণ করতে চাই। তাদের কষ্টটুকু সিনেমার মাধ্যমে অন্তরে ধারণ করতে চাই। কিন্তু শ্রমিকদের আবেগকে শ্রদ্ধা না করে, বরং ধামাচাপা দেবার জন্য সিনেমাটি আটকে দেয়া হয়েছে এবং সেখানে সরকার দলীয় লোকের উপস্থিতি! তাতে করে চক্রান্তকারীরা কি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বৃহত্তর শ্রমজীবি মানুষদের খেপিয়ে তোলার সুযোগ নিতে পারে না! তাহলে সরকার বিরোধী চক্রান্ত আসলে কোনটা? সিনেমাটি মুক্তি দেয়াতে? নাকি আটকে দেয়াতে? মহামান্য আদালতকে কি বিভ্রান্ত করা হয়েছে? কারণ আইন কাগজে লিপিবদ্ধ থাকে। কিন্তু তাকে রক্ষা এবং ব্যবহার করে রক্ত মাংসের মানুষ। ফলে সেই মানুষকে কোন না কোনভাবে বিভ্রান্ত করার সম্ভাবনা একদমই উড়িয়ে দেবার সুযোগ নেই।

৭. আচ্ছা সিনেমাটির মূল কর্তৃপক্ষ কি ভাবনার চেয়েও বেশী আয়ের জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করার জন্য কোন নাটক সাজাচ্ছে! আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা শুনে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হবে। তাদের প্রতিবাদে সিনেমাটি মুক্তি পাবে। তারা দল বেধে হলে যাবে। সিনেমাটি কোটি পেরিয়ে আরো অনেক কোটি টাকা আয় করবে! এখানে কোন রাষ্ট্র বিরোধী চক্রান্ত নেই। কিন্তু স্বজন হারানোর বেদনাকে পুঁজি করে নির্মম বাণিজ্যের সম্ভাবনা প্রবল।

৮. শুধুমাত্র ‘রেশমা’ নামটা ব্যবহারের কারণে সিনেমাটি আটকে দেবার শতভাগ যুক্তিযোগ্যতা আছে বলে মনে করি। পুরো সিনেমা জুড়ে এই নামটি বদলে দেবার জন্য সেন্সর বোর্ড ব্যবস্থা নিতে পারে।

04৯. আমাদের কয়েক হাজার ভাই-বোন সেই ঘটনায় মারা গেল। হাজার হাজার ভাই-বোন পঙ্গু হলো। হাজার হাজার বিকলাঙ্গ হলো। তাদের সেই দু:খগাঁথা তো সিনেমাতেই উঠে আসবে। এই মৃত্যুদৃশ্য যদি বীভৎস হয়, তবে তা বীভৎস-ই। কিন্তু এই বীভৎসতাই সত্য। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জাতীয় লজ্জা ১৫ আগষ্টকে যদি আমরা সত্যিই কোনদিন চিত্রায়িত করে, তবে সেখানে বীভৎসতাই আসবে। বীভৎসতা ব্যতীত সত্য সামনে আসতে পারবে না। শিশু রাসেলের মৃত্যুর গল্পে দুর্বল হার্টের লোক বেদনায় মারাও যেতে পারে! তাই বলে কি আমরা সফট আরামদায়ক মৃত্যু দেখাবো! তাতে কি অপরাধীদের প্রতি ঘৃণাটা নরম হবে না! কোন নির্মাতার কি কোনভাবেই সেই দৃশ্য কোমলভাবে দেখানোর সুযোগ আছে!

এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অনলাইনে যোগাযোগ করা হলে পরীমনি কিছু বলতে রাজি হন নি। অন্যদিকে সায়মনের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। আশা করবো আমার যাবতীয় ধারণা এবং প্রশ্নগুলো ভুল ধারণা হিসেবে চিহ্নিত হবে আগামীতে। ভাল থাকুক আমার দেশ। নিরাপদে থাকুক আমাদের শ্রমজীবী ভাইবোনেরা। শুদ্ধ হোক আমাদের চলচ্চিত্র। অবাস্তবতা থেকে বাস্তবতায় থাকুক আমাদের সেন্সরবোর্ড সদস্যরা। আইনের চলার পথ হোক মুক্ত-স্বাধীন। source-karunews24

পোষ্টটি লিখেছেন: Bhinno

Bhinno News এই ব্লগে 79 টি পোষ্ট লিখেছেন .

An exclusive website for Bhinno News

Close [X]