বাংলাদেশে অবাধে সেক্স টয় বিক্রি হচ্ছে হিজাবের আড়ালে

toy
Loading...

মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে নারীরা সাধারণত স্কার্ফ বা হিজাব পড়েন৷ মাথার চুল ঢেকে রাখাই এই হিজাবের মুখ্য উদ্দেশ্য৷ কিন্তু বর্তমানে এটি যেন ফ্যাশান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে৷ আর তার ফলে ফ্যাশান মঞ্চেও এখন উঠে এসেছে হিজাব৷ এরই ধারাবাহিকতায় ক্রেতা সাধারনের কথা চিন্তা করে শিক্ষানগরী রাজশাহীতে গড়ে উঠছে বেশ কয়েকটি ইসলামী ফ্যাশান হাউজ।

যেখানে ভিন্ন ভিন্ন বয়সী নারীদের জন্য রয়েছে দেশি বিদেশি নানা ডিজাইনের হিজাব। এই রকমই একটি ফ্যাশান হাউজ হিজাবী। অভিযোগ উঠেছে হিজাবীতে মেয়েদের ইসলামী পোষাকের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক সামগ্রী।

রাজশাহীর তরুনীদের কাছে ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই হিজাবী ফ্যাশান হাউজ। অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, হিজাবের পাশাপাশি সেখানে, মেয়েদের অন্তর্বাস সহ নানা ধরনের যৌন সামগ্রী মধ্যে রয়েছে মেয়েদের জন্য কয়েক পদের সেক্সটয়, যার মধ্যে ভাইব্রেটর, ডিল্ড, হ্যালো কিটি ভাইব্রেটর, গোল্ড কিটি ভাইব্রেটর, নকল হাইমেন অন্যতম।

ইসলামী ফ্যাশান হাউজের নামে এই ধরনের যৌন সামগ্রী বিক্রিই হিজাবীর জনপ্রিয়তার কারন বলে ধারনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থিনীতি বিভাগের ছাত্রী জেসমিন আক্তার পনিকা।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে, নিউ সাহেব বাজার বড় মসজিদের পেশ ইমাম সালেহ মুক্তাদির জানান, ‘ব্যাপারটি খুবই দুঃখজনক। রাজশাহীর মত একটি শহরে এমন কিছু বিক্রি হচ্ছে আমি ভেবে পাচ্ছি না। আসলে কিয়ামত বেশি দূরে নয়। আমি সেই আলামতই পাচ্ছি।’

অভিযোগ নিয়ে হিজাবীতে ফোন করা হলে, তারা প্রথমে ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে চাইলেও পরে হিজাবীর এক কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, ক্রেতাদের চাহিদা আছে বলেই তারা এই ধরনের প্রডাক্ট বিক্রি করছেন। ব্যাপারটিকে পজেটিভ ভাবে দেখতে বলে নিজেই লাইন কেটে দেন। পরে বার বার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেন নাই।

বেশকিছুদিন ধরেই রাজশাহীর সোস্যাল গ্রুপ গুলোতে সমালোচনার ঝড় বইছে এই হিজাবী ফ্যাশান হাউজের কর্মকান্ড নিয়ে। রাজশাহীর এক অনলাইন এক্টিভিষ্ট গুরু তার ফেসবুক টাইম লাইনে লিখেছেন, ‘বাটার মোড়ে হিজাবী নামে এক হিজাব ফ্যাশান হাউজ খুলেছে।সেখানে এক পুতুল মাথায় হিজাব পড়ে বুকে ওড়না না দিয়ে বুক উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। পুতুল দেখেই যেকেনো ছেলের চেতনা জেগে যাবে, কেউ পড়লে কি যে হবে…’

হিজাবীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘এখানে ছেলে ও মেয়েদের উভয়ের জন্য সেক্স টয় বিক্রি করা হয়। ছেলেরা আসে তাদের গার্লফ্রেন্ডের জন্য, আর মেয়েরা আসে তাদের বয়ফ্রেন্ডের জন্য কিনতে। অনেক সময় প্রেমিক-প্রেমিকারা এক সাথে এসেই কিনে নিয়ে যায়। তবে এই ধরনের প্রডাক্ট প্রকাশ্যে সেল দেওয়া নিষেধ। আর ধনী ঘরের ছেলে মেয়েরাই এই সব কিনছে বেশি।’
হিজাবী এই ধরনের যৌন সামগ্রী বিক্রি করছে এই ব্যাপারে পুলিশ কেন কিছু করছে না?

জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া মডেল থানার ডিউটি অফিসার এস.আই শিহাব উদ্দিন জানান, ‘এই ব্যাপারে আমার জানা নাই, তবে এধরনের যৌন উত্তেজক সামগ্রী প্রকাশ্যে বিক্রি করা অপরাধ। আমি বিষয়টি নিয়ে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা নিব।’

নিয়মিত আপডেট সরাসরি আপনার ফেসবুক ওয়ালে পেতে লাইক দিন…?

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3297 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন