ইংরেজীতে ভালো করার দুটি উপায়

Loading...

পার্থক্যটা কোথায়? Stop-এর পর কি সব সময়ই verb+(-ing) হবেই? এটা বুঝতে কী লাগে? শুধুই গ্রামার? নাহ! কমনসেন্সও লাগে। ইংরেজিতে ভালো করার মূলমন্ত্র দুটি-

এক. বানান ভুল করা যাবে না।

দুই. গ্রামাটিক্যাল ভুল করা যাবে না।

এ দুটি ব্যাপার মাথায় রেখে একেবারে সহজ ভাষায় ইংরেজিতে লেখার চর্চা করুন। ফেসবুকে সহজ ইংরেজিতে একটু বড় বড় স্টেটাস আর কমেন্ট লিখুন।

ওপরের কথাগুলো কেন বললাম? এবারের লিখিত পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্নটা দেখলে বুঝতে পারবেন, লিখিত পরীক্ষার কিছু কিছু ব্যাপার মাথায় রেখে প্রিলির প্রস্তুতি নিলে চাকরি পাওয়াটা সহজ হবে। বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অনুবাদ। খুব একটা সহজ অনুবাদ বিসিএসে সাধারণত কখনোই আসে না। এ অংশটি এখন থেকেই একটু ভিন্নভাবে পড়ে রাখতে পারেন। বিভিন্ন ইংরেজি আর বাংলা পত্রিকার সম্পাদকীয় নিয়মিত অনুবাদ করুন। কাজটি করা কষ্টকর, কিন্তু বাজি ধরে বলতে পারি, খুবই কাজে দেবে।

এখন প্রিলি নিয়ে কথা বলছি। ল্যাংগুয়েজ পার্টে গ্রামার ও ইউসেজের ওপর প্রশ্ন আসবে। কয়েকটি গাইড বই ও জব সলিউশন থেকে প্রচুর প্র্যাকটিস করুন। ইংলিশ ফর দ্য কম্পিটিটিভ এক্সামস, অ্যা প্যাসেজ টু দ্য ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ, অক্সফোর্ড অ্যাডভান্সড লার্নারস ডিকশনারি, লংম্যান ডিকশনারি অব কনটেম্পোরারি ইংলিশ, মাইকেল সোয়ানের প্রাক্টিক্যাল ইংলিশ ইউসেজ, রেইমন্ড মারফির ইংলিশ গ্রামার ইন ইউজ, জন ইস্টউডের অক্সফোর্ড প্র্যাকটিস গ্রামারসহ আরো কিছু প্রামাণ্য বই হাতের কাছে রাখবেন। এসব বই কষ্ট করে উল্টেপাল্টে উত্তর খোঁজার অভ্যাস করুন, অনেক কাজে আসবে। যেমন-এনট্রাস্ট শব্দটির পর ‘টু’ হয়, আবার ‘উইথ’ও হয়। ডিকশনারির উদাহরণ দেখে লিখে লিখে শিখলে ভুলে যাওয়ার কথা না।

ভোকাবুলারির জন্য ম্যাক ক্যারথি এবং ও-ডেলের ইংলিশ ভোকাবুলারি ইন ইউজ (সব খণ্ড), নর্ম্যান লুইসের ওয়ার্ড পাওয়ার মেইড ইজিসহ দু-একটি দেশি বইও দেখতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং এমবিএ ভর্তি পরীক্ষার আগের বছরের প্রশ্নগুলো থেকে শুধু ভোকাবুলারি সেগমেন্টটা সলভ করলে কাজে লাগবে। নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়ুন। বিভিন্ন ইস্যুর ওপর রিপোর্ট, সম্পাদকীয় আর চিঠিপত্র অর্থ বুঝে সময় নিয়ে পড়ুন, রিটেনেও কাজে লাগবে।

লিটারেচারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মাথায় রাখবেন, দু-একটি প্রশ্নের উত্তর যাঁরা ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স, তাঁরাও পারবেন না। নেগেটিভ মার্কিং হয় এমন কম্পিটিটিভ পরীক্ষার নিয়মই হলো, সব কটার উত্তর করা যাবে না। আগের বিসিএস পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন+জব সলিউশন+গাইড বই আর সঙ্গে ইন্টারনেটে ইংলিশ লিটারেচার বেসিকস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে কাজে আসবে।

৩৫তম বিসিএস প্রিলিতে একটা প্রশ্ন ছিল এ রকম-Women are too often ___ by family commitments. (ক) confused

(খ) controlled (গ) contaminated (ঘ) constrained

এটা কেন লিখলাম? আমাকে একটা প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয়, ‘ভাইয়া, ইংলিশ গ্রামারের জন্য কোন বইটা পড়ব?’ আমি দুইটা বইয়ের নাম বলি-Oxford Advanced Learner’s Dictionary আর Longman Dictionary of Contemporary English. সঙ্গে আরো কিছু বইয়ের কথাও বলি। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ওরা তো আমার কাছ থেকে গাইড বইয়ের নামই জানতে চেয়েছিল। আর আমি কিনা! অথচ গতবার গাইড বই থেকে কয়টা প্রশ্ন ‘কমন’ এসেছে? আপনি লংম্যানের ডিকশনারির constrain এন্ট্রিটাতে গিয়ে দেখুন। ওই এন্ট্রির শেষ এক্সাম্পলটা- Women’s employment opportunities are often severely constrained ‘by’ family commitments. কী বুঝলেন? প্রশ্ন কোথা থেকে হয়? যাঁরা প্রশ্ন করেন, তাঁদের কী সময় আছে গাইড বই দেখে প্রশ্ন করার? কিংবা কোচিং সেন্টারের গাদা গাদা ‘শিটমার্কা’ শিট পড়ার? সত্যিই নেই। গতবারের বিসিএস পরীক্ষা সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। একটা গ্রামারের প্রশ্ন না পারলে আমরা গাইড বই খুঁজতে শুরু করি। একেক গাইডে একেক রকমের উত্তর। এরপর কোচিংয়ের স্যারদের পেছনে ছুটি। কী দরকার, ভাই? ওই গাইড বইয়ের লেখক কিংবা ওই কোচিংয়ের স্যার কি আপনার চেয়ে খুব বেশি জানেন? কী হয় একটু কষ্ট করে ডিকশনারির এন্ট্রিতে গিয়ে এক্সাম্পলগুলো স্টাডি করে শিখলে? একটা প্রশ্ন কিন্তু আরো কয়েকটা প্রশ্নের সূতিকাগার। ওই বইগুলো হচ্ছে সব গাইড বইয়ের বাইবেল। ওখানে যা আছে সেটাই কারেক্ট। ব্যাপারটা খুব কঠিন কিছু না। বই দুটির পৃষ্ঠা উল্টে উল্টে প্রশ্ন সলভ করার প্র্যাকটিস করবেন। প্রথম প্রথম একটু বিরক্ত লাগবে, আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেলে সেটি নেশায় পরিণত হবে। আমি ‘আপনি আচরি ধর্ম অপরে শেখাও’ নীতিতে বিশ্বাসী। আমি নিজে ওই কাজটা করেছি, তাই আপনাদেরও করতে বলছি। এই কষ্টটা করতে না পারলে, আপনার জন্য একটাই পরামর্শ-ভুল শিখুন, ভুল করুন, ফেল করুন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

পোষ্টটি লিখেছেন: Polash Chowdhury

Polash Chowdhury এই ব্লগে 70 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন