প্রাক্তন প্রেমিকের ছোট ভাইয়ের সাথে হোটেলে রাত কাটিয়েছি

কোন কথা ছাড়া কিভাবে মেয়েদের কথা বলার জন্য আকর্ষণ করানো যেতে পারে

জীবন থাকলে সম্পর্ক থাকবেই। আর সম্পর্ক থাকলে থাকবে সমস্যা। প্রতিদিন ফেসবুকের ইনবক্সে ও ই-মেইলে আমরা অসংখ্য সম্পর্ক ভিত্তিক প্রশ্ন পাই, যেগুলোর কথা হয়তো কাউকেই বলা যায় না। পাঠকদের করা সেইসব গোপন প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমাদের এই আয়োজন।

আপনি চাইলে নিজের এমনই কোন একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যার কথা লিখে জানাতে পারেন আমাদের। আমরা প্রতিদিন চেষ্টা করবো বাছাইকৃত কিছু সমস্যার সমাধানে কাঙ্ক্ষিত পরামর্শটি দেবার। সমস্যার কথা “বাংলায়” লিখে জানান আমাদের ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। নাম গোপন রাখতে চাইলে লিখে দেবেন “নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক”। আমাদের পেজ লিঙ্ক- https://www.facebook.com/bhinno
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের জীবনের বিশাল কাহিনী যা সংক্ষেপে এই রকম-

” আমার প্রথম স্বামী খুব অত্যাচার করতেন, মারধোর করতেন। ৩ বছর সংসারের পর ডিভোর্স হয়। ডিভোর্স হবার পর প্রাক্তন প্রেমিকের ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বলতে শুরু করি। এক পর্যায়ে সে বলে দেখা করতে, আমরা পার্কে দেখা করি। একদিন সে বলে, চলুন আমরা ১ দিনের জন্য ঘুরতে যাই। সে আরও বলে যে কিছুই করবে না, শুধু কথা বলবে। আমরা একটি হোটেলে গিয়ে উঠি। কিন্ত সে কথা রাখেনি। সেই রাতেই আমাদের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং কিছুদিন পর আবিষ্কার করি যে আমি গর্ভবতী। ওকে বলার পর সে বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। আমি রাজি হই না। সে তারপর বলে বাচ্চা নষ্ট করলে বিয়ে করবে। আমি সেই আশায় বাচ্চা নষ্ট করিয়ে ফেলি। কিন্ত তারপর সে ঘুরে যায়। বলে যার বড় ভাইয়ের সাথে আমার প্রেম ছিল, আমি তার বড় ভাইয়ের সাথে রাত কাটিয়েছি, এমন মেয়েকে তার পরিবার কখনোই মেনে নেবে না। আমি তখন ওর বাসায় সিব জানিয়ে দেয়ার হুমকি দিই। সে রাগে ভয়ে আমাকে বিয়ে করে।

বিয়ের পর ৫ বছর পার হয়ে গেছে। সে বাচ্চা নিতে চায় না, বললেই রাগ করে। ওর বাসায় আমাদের বিয়ের কথা জানে না। সে আমাকে কোন অধিকার দেয় না। তাদের বাড়িতে নেয় না। আমিও জোর দিতে পারি না। কারণ তার বড় ভাইয়ের সাথে আমার প্রেম ছিল। এদিকে স্বামী প্রায়ই বলে সে আরেকটা বিয়ে করবে, আজকাল সে মেয়ে দেখতে যায় আর আমি কিছুই বলতে পারি না। সে বলে বিয়ে করে যৌতুক নেবে, এমন মেয়ে বিয়ে করবে যাকে সবার সামনে পরিচয় দিতে পারে। আমার বাবা মারা গেছে, আমি খুব গরীব ঘরের মেয়ে, ৪/৫ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি দুদিন আগে ওর নামে সাধারণ ডায়রি করেছি। আমার ৫ বছরের সংসার আমি হারাতে চাই না।

আরও একটা কথা বলি, এই লোকটা এত খারাপ যে সে আমার ১১ বছরের ছোট বোনের গায়েও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে হাত দেয়। যদিও সে হাতেনাতে ধরা পড়েছে ও ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু আমি মন থেকে ভুলতে পারছি না…

আমি কী করবো আপু? প্লিজ কিছু বলুন।”

পরামর্শ

আপু, প্রথমেই বলে রাখি যে আপনার সমস্যাটি অনেক বেশি জটিল। আর এই সমস্যার জন্য অনেকটাই আপনি নিজে দায়ী। একের পর এক ভুল আপনি করে গিয়েছেন জীবনে। এবং আমার ভয় হচ্ছে এর অনেক বড় মাসুল দিতে হবে আপনাকে।

প্রথমত, একটি ডিভোর্সের পর আপনার উচিত ছিল খুবই সাবধান হওয়া ও বুঝে জীবনের পথে পা বাড়ানো। আপনি সেটা না করে যে প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে আপনার শারীরিক সম্পর্ক ছিল, তাঁরই ছোট ভাইয়ের সাথে হোটেলে গিয়েছেন ও সম্পর্ক করেছেন। এটা কি উচিত হয়েছে আপু? যে মানুষ বিয়ের ওয়াদা পর্যন্ত করেনি, কেবল আপনার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে, সেই মানুষকে আপনি ব্ল্যাক মেইল করে বিয়ে করতে বাধ্য করেছেন। তখনই আপনার বোঝা উচিত ছিল যে এমন একটি মানুষ আপনাকে কখনো ভালো রাখবে না। কেবল কাগজে সই করাটাই তো বিয়ে নয়, বিয়ে একটি সামাজিক ও পারিবারিক ব্যাপার। তার পরিবার ও সমাজ স্বীকৃতি না দিলে এই সংসার টিকিয়ে রাখা আপনার জন্যই খুবই কঠিন হবে।

যাই হোক, আপনার দেনমোহর কত বা কোথায় কীভাবে বিয়ে হয়েছিল জানিনা। তবে এই মুহূর্তে আপনার জন্য সবচাইতে জরুরী কাজ হলো নিজের কাবিন নামার একটি কপি যোগাড় করে ফেলা। এবং নিরাপদে কোন স্থানে রাখা যেন আপনার স্বামীর হাতে কোনভাবেই না পড়ে। এই কাবিন নামা না থাকলে আপনি তার বিয়েও আটকাতে পারবেন না বা ডিভোর্স হয়ে গেলে নিজের হক আদায় করতে পারবেন না। তবে আপনি যে কাবিন নামা যোগাড় করেছেন সেটা তাঁকে জানতে দেবেন না।

যেহেতু আপনি সংসার টিকিয়ে রাখতে চান, সেহেতু তার সাথে ঝগড়া ঝাঁটি না করে সমঝোতার মাধ্যমে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করুন। আপনার বাড়িতে বোনটি নিরাপদ নয়। তাছাড়া আপনার স্বামীর এই বোনের প্রতি যৌন আগ্রহের কারণেও তাঁকে বাড়িতে রাখাটা উচিত হবে না। স্বামীকে ভালোবাসা দিয়ে বশ করতে পারেন কিনা দেখুন। তবে সেটা পারার সম্ভাবনা কম। এরপরও সে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে হুমকি দিন যে আপনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন সে দ্বিতীয় বিয়ে করলে, থানায় ডায়রিও করিয়ে রেখেছেন।

এছাড়াও থানায় জিডি করিয়ে রাখেন যে আপনার কোন রকম ক্ষতি হলে বা আপনি নিখোঁজ হলে সেটার জন্য স্বামী দায়ী। আপনি একজন ভালো কিলের সাথেও কথা বলে ফেলুন। উকিলই আপনাকে বলতে পারবেন যে আসলে আপনার কী করা উচিত। এছাড়াও আপনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ (এটি সেগুন বাগিচায়) ও পারিবারিক আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাহায্য নিতে পারেন। গুগলে একটু সার্চ করলেই যোগাযোগের নম্বর পেয়ে যাবেন।

আমার ব্যক্তিগত মতামত এই যে, এই সম্পর্কে আপনি সুখ বা অধিকার কিছুই আসলে পাবেন না। কেননা সবকিছু ইতিমধ্যেই অনেক জটিল হয়ে গেছে। আপনি চেষ্টা করুন নিজেকে জটিলতা থেকে বের করে নিয়ে আসতে। জোর করে কাকে সম্পর্কে বেঁধে রাখার ফল কখনো ভালো হয় না।

পোষ্টটি লিখেছেন: বিশ্ব বিবেক

বিশ্ব বিবেক এই ব্লগে 3317 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Loading...
পোস্টটি ভাল লাগলে লাইক দিন